রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন
প্রতিবছরই তো নারী দিবস পালন করছি। অথচ, World Economic Forum-এর হিসাবে আমরা এখনও নারী-পুরুষ সমতা থেকে প্রায় ১০০ বছর দূরে। নারী-পুরুষ সমতায় এই ফাঁকটুকু কমুক। তার জন্য যেন আরও ১০০ বছর অপেক্ষা করতে না হয়। আমরা তো কাজ করে যাচ্ছি, হয়তবা ধীরে ধীরে এই ফাঁকটা কমছে। অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তবে আমার মনে হয়, আরও অনেক পরিসরে নারীদের আরও অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আছে। এখনও শিক্ষাক্ষেত্রে নারীরা অনেকটা পিছিয়ে। এখনও ‘চাইল্ড ম্যারেজ’ একটা বড় ইস্যু। এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কন্যা ভ্রূণ হত্যা হয়ে চলেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় নারী-পুরুষ সমতার ভাবনাটা পরিবার থেকেই শুরু হওয়া প্রয়োজন। পরিবার থেকেই এই মূল্যবোধটা তৈরি হয়। পরিবারে হয়ত বাবা-মা, ভাই-বোনের ক্ষেত্রে আলাদা আচরণ হচ্ছে। সেখান থেকেই একজন শিশু সেটা ধারণ করে বড় হয়। বড় হয়ে বিভিন্ন কাজে সেটারই প্রতিফলন ঘটে। আমার মনে হয় পরিবার থেকেই নারী-পুরুষ সমতার শিক্ষাটা শুরু করা উচিত। একজন শিশুর কাছে আমাদের বাবা-মায়েদের উদাহরণ তৈরি করতে হবে। যেন তাঁদের মাথায় এই বৈষম্যের বিষয়টাই না আসে। তাহলে সেই শিশু যখন বড় হচ্ছে, তার মাধ্যমেও পরিবারে, শিক্ষাক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে সেই সমতার প্রতিফলন ঘটবে। এভাবেই হয়ত ধীরে ধীরে সমতায়নের পথে আমরা এগোতে পারব। আমার বাড়ির কথা যদি বলি, তাহলে বলব আমার বাবা-মা হয়ত অত সচেতনভাবে এই নারী-পুুরুষ সমতার বিষয়টা শেখাননি। তবে তারপরেও আমি আমার পরিবারে এই সমতা দেখেছি। আমার বাবা কিন্তু বাড়ির কাছেও নিপুণ। আমার বাবা-মাকে দেখেছি বাড়ির কাজগুলো ভাগ করে নিতে। আমি যখন স্কুলে যেতাম, দেখেছি আম্মু হয়ত নাস্তা বানাচ্ছেন, আব্বু হয়ত চুল বেঁধে দিচ্ছেন। এবিষয়গুলো দেখেছি বলেই হয়ত এটা আমার জীবনে প্রভাব ফেলেছে।